Communication skill বা যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

0
147
Communication skill

Last Updated on October 5, 2021 by Engineers Mirror

 

Communication skill বা যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

 

প্রত্যাহিক জীবনে মানব সম্পর্ক ও মানব সম্পদ পরিচালনার জন্য যোগাযোগ দক্ষতা বা ‘communication skill‘ এর বিকল্প কিছু নেই। তাই এর প্রয়োজনীয়তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় যোগাযোগ এ আর এমন কি!! তাই না?

কিন্তু, আপনি যদি ঠিকঠাক দক্ষতার সাথে যোগাযোগ না করতে পারেন তবে আপনার উদ্দেশ্য হাসিল নাও হতে পারে। সাধারণত যোগাযোগ মৌখিক হয়ে থাকে বা পারস্পারিক কথাপকথনের মাধ্যমে। নিজের মনভাব সঠিক ভাবে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজন Communication skill বা যোগাযোগ দক্ষতা। আপনি যে সেক্টরে কাজ করেন  না কেনো  সিনিয়র  কর্মকর্তা, সহকর্মী এবং কর্মীদের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগের দক্ষতা অপরিহার্য। এই যোগাযোগ দক্ষতা আপনাকে পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে সাফল্য পেতে সহায়তা করবে। কর্পোরেট জগত মানেই নিত্য নতুন প্রতিযোগিতা। যোগাযোগসহ অন্যান্য দক্ষতায় তুখোড় না হলে ছিটকে পড়তে হবে এ প্রতিযোগিতা থেকে। কারণ কর্মক্ষেত্রে উন্নতির অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যোগাযোগে কতোটা পারদর্শী তার উপর।

বিভিন্ন সেমিনারে যে কথাটি সব থেকে বেশি আলোচনায় থাকে সেটি হল ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ বা ‘যোগাযোগ–দক্ষতা’। আপনি যে পেশাতেই থাকেন না কেন যোগাযোগ দক্ষতা বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতেই হবে। যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে করণীয় বিষয়সমূহ জেনে নেই।

নিজেকে উপস্থাপনঃ

যোগাযোগে  পারদর্শী হতে হলে প্রথমেই নজর দিতে হবে উপস্থাপন ভঙ্গির উপর। যারা নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে না তাদের প্রতিভা ও মূল্যায়ন হয়না। অন্যের নিকট নিজেকে প্রকাশ করা চাই আকর্ষণীয়ভাবে। নিজেকে উপস্থাপন করা বিষয়টি দুইটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একটি বাহ্যিক উপস্থাপন অন্যটি আভ্যন্তরীণ উপস্থাপন বা ভিতর থেকে নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন। কথা বলার সময় অপর মানুষের চোখে চোখ রাখতে শিখুন, অনর্থক হাত নাড়ানাড়ি বন্ধ করুন, সোজা হয়ে চলাফেরা করুন আর নিজের মুখের নমনীয়তা বজায় রাখুন। সাথে নিজের চেহারায় রুচিশীলতা প্রকাশ করুন। সঠিক ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধ যেন আপনার কথা বার্তা ও চালচলনে ফুটে ওঠে শতভাগ।

আন্তঃসম্পর্ক স্থাপনঃ

সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করাও কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতার মধ্যে পড়ে। সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক না থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কখনো উন্নতি করতে পারে না।

আমি যখন আমার বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলাম সিনিয়র দের সাথে কিভাবে সুসম্পর্ক রাখা যায় একজন অনেকটা মজা করেই বলে  “তেল মারতে হবে প্রচুর তেল মারতে হবে”

মজা করে বললেও আমাদের দেশ অনেকে মনে করে তেল মারলেই সব ওকে কিন্তু এই তেল মারা লোকজন কিন্তু কারো প্রিয় হতে পারে না।তাই নিজের কাছে যদি তেল মারার মত গুন থেকে থাকে সেটা দূর করতে হবে।

সাবলীলভাবে কথা বলার চর্চাঃ

ভাবতে পারেন, কথা বলা—এ আর এমন কী! কিন্তু জেনে রাখুন, শুধু সুন্দর করে কথা বলার গুণ যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে অন্যতম হাতিয়ার। কথা বলার সময় মুখ এবং মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকা কিংবা প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলার অভ্যাস দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার জন্য তাই বাড়াতে হবে আবেগীয় দক্ষতা। সহকর্মীর সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানান ও উৎসাহিত করুন।তাতে সম্পর্ক ভালো হবে। একসঙ্গে কোনো কাজ করতে গেলে সকলের মতামত নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। আগ বাড়িয়ে নিজেই সব করে ফেলতে যাবেন না।নিজে কথা বলবেন অবশ্যই, তবে তার আগে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনার অভ্যাস করুন।

ক্ষমা চাওয়ার মতো মানসিক শক্তি অর্জনঃ

নিজের ভুল শিখার করা কি দুর্বলতা? বর্তমান সমাজে ভুল স্বীকার করা মানেই দুর্বলতা এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। মানুষ ভুল করে। আপনিও ভুল করবেন। তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করুন। এই মানসিকতা আপনার প্রতি অন্যদের মনে ভালো ধারণার জন্ম দেবে। এটি একটি ভালো যোগাযোগ দক্ষতা। এই দক্ষতা আপনাকে মানুষদের আরও কাছে নিয়ে যাবে। আপনার সফলতার জন্য এটি ভালো একটি মাধ্যমও।

অন্যের কথা মনযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাসঃ

আপনি কি একটি বিষয় খেয়াল করেছেন? তা হলো আমরা কথা সুন্দরভাবে বলার জন্য, সঠিক উচ্চারণের জন্য, ভালো বক্তা হওয়ার জন্য, সেরা উপস্থাপক হওয়ার জন্য কতই না প্রশিক্ষণ, কতই না শিক্ষা গ্রহণ করছি। কিন্তু কথা শোনার কৌশল, কথা শোনার পদ্ধতি, কথা মনোযোগ দিয়ে শুনার ইচ্ছা তৈরি করার উপায় কি? এর ওপর আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়েছি কি? কথা গুছিয়ে বলার জন্য, অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য, কথার মাধ্যমে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার জন্য, নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের জন্য আমরা প্রশিক্ষণে অর্থ ব্যয় করছি। কিন্তু তার আগে প্রয়োজন হলো কথা শোনা এবং তা রপ্ত করার সহজ উপায় সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা।

কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় তা গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন। প্রসঙ্গের বাইরে কথা বলতে যাবেন না।মনে রাখবেন একজন মনোযোগী শ্রোতা খুব সহজেই অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। কথা শোনা শেষ হলে আপনার বক্তব্য গুছিয়ে বলুন।

নিজের ইতিবাচক দিক সমূহ তুলে ধরতে শিখুনঃ

নিজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করুন। আমরা কিছু মানুষ আছি তারা মনে করি আমি যা বলতেছি তা সঠিক নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য কখনো জোর খাটাতে শুরু করি এটা আপনার ক্যারিয়ার এর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে তাই আপনার বক্তব্যের পক্ষে জোরালো যুক্তিগুলো তুলে ধরুন সুন্দর করে।

নিজের চিন্তাশক্তি বিকাশের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের থিংকিং, ফাস্ট অ্যান্ড স্লো বইটি পড়তে পারেন। সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক চিন্তা করা শিখতে হবে

আত্মবিশ্বাসী হতে হবেঃ

আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে মূল্যায়ন করুন। আপনার ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। আপনি যে কাজটা ভালো করেন, সেটা মনে করে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারেন। নিজের ভালো কাজগুলোর কথা ভাবুন। নিজের ভালো কাজগুলোকে আরও ভালো করার জন্য চর্চা করুন নিয়মিত অল্প সময়ের জন্য হলেও। নিশ্চিতভাবে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। সবসময় কথা বলবেন আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে। তবে আচরণে অহংকার বা জেদ যেন প্রকাশ না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। কর্মক্ষেত্রে সব ধরণের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ করুন।

বাচনভঙ্গি সংযত করতে হবেঃ

বাচনিক দক্ষতা communication skill এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কথা বলার সময় অযথা হাত পা নাড়া কিংবা চিৎকার করা কথা বলা উচিত নয়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাচনভঙ্গিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অঙ্গভঙ্গি যেন অন্যকে বিরক্ত না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

ভাষাগত দক্ষতার উন্নয়নঃ

মানুষের সাথে কথা বলুন উত্তম ভাষায়। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা নির্ভুল বলার পাশাপাশি ভাষায় আঞ্চলিকতা থাকলে তা পরিহার করা জরুরী। শুদ্ধ ভাষা, স্পষ্ট উচ্চারন ও কথা বলার মোহনীয় ভঙ্গি আপনার যোগাযোগকে আরোও সাবলীল করে তুলবে।

পরামর্শ নিনঃ

পরামর্শ নিলে আপনার জ্ঞান বাড়বে। Communication skill বা যোগাযোগ দক্ষতার কৌশল আয়ত্তের জন্য আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন। আপনি যে ক্ষেত্রে পেশা গড়তে চান কিংবা যে বিষয়ে পড়ছেন, তা সম্পর্কে কী কী যোগাযোগ–দক্ষতা প্রয়োজন, তা জানতে পরামর্শ নিন। যোগাযোগ–দক্ষতা বিকাশের জন্য কোচ বা মেন্টর নির্বাচন করে তাঁর কাছ থেকে হাতে–কলমে শেখার চেষ্টা করুন। ‘কথা বলা আবার শেখার কী আছে’—এমনটা ভাববেন না।

নেতৃত্ব বিকাশ করুনঃ

যোগাযোগ দক্ষতা আপনাকে যেকোনো ক্ষেত্রে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেবে। কোনো দলের নেতা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হওয়ার পর কেউ যোগাযোগ দক্ষতা প্রকাশ করে না। যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে যেকোনো ব্যক্তিই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানবিশ থেকে কর্মকর্তা হতে পারেন, দলের সাধারণ সদস্য থেকে হয়ে চলে যেতে পারেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের জায়গায়।

অনুসরণ করতে হবেঃ

যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশের জন্য  পাবলিক স্পিকিং বা প্রেজেন্টেশন এর কৌশল জানতে হবে। প্রেজেন্টেশনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানার বেশ আলোচিত একটি বই হচ্ছে লেখক কারমাইন গ্যালোর দ্য প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস বইটি। বইটিতে অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বিভিন্ন ব্যবসা–সংক্রান্ত প্রেজেন্টেশন তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে চাইলে যেকোনো বিখ্যাত ব্যক্তির কৌশলগুলো সহজে অনুসরণ করতে পারেন। ইউটিউবে পৃথিবীখ্যাত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা আর প্রভাবশালীদের বক্তব্য দেওয়ার কৌশল নিয়ে অনেক ভিডিও দেখতে পাবেন। এ ছাড়া পড়তে পারেন ক্রিস অ্যান্ডারসনের লেখা টেড টক: দ্য অফিশিয়াল টেড গাইড টু পাবলিক স্পিকিং।

ঠিকানা লেখার নিয়ম ।। ইংরেজিতে ঠিকানা লেখার নিয়ম, বাংলায় ঠিকানা লেখার নিয়ম এবং চিঠির খামে ঠিকানা লেখার নিয়ম

বায়োডাটা লেখার নিয়ম, জীবন বৃত্তান্ত লেখার নিয়ম, CV, Resume

দরখাস্ত লেখার নিয়মাবলী এবং আবেদন পত্র লেখার নিয়ম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here