কাউ মিল্ক উইথআউট কাউ

0
32
cow milk
cow milk

কাউ মিল্ক উইথআউট কাউ

দুধ কে বলা হয় আদর্শ খাবার। দুধের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টিগুণ আছে। কিন্তু এই পুষ্টিকর গরুর দুধে কিছু অসুবিধে ও আছে।

প্রথমত, এই পুষ্টিকর গরুর দুধ ৬০% মানুষ খেতেই পারে না। কারণ গরুর দুধে আছে ল্যাকটোস নামে এক ধরণের শর্করা। এই ল্যাকটোস বিশ্বে ৬০% মানুষ হজম করতে পারে না। গরুর দুধে আরো আছে কোলেস্টরল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট। হার্ট এবং রক্তচাপে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকরা কোলেস্টরল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেতে না করা হয়।

দ্বিতীয়ত, গরুর দুধ উৎপাদনে অনেক শ্রম, অর্থ, জায়গা, এবং পানি লাগে। একটা জরিপে দেখা গেল ১ লিটার গরুর দুধ উৎপাদনে গরুর গড়ে ১ হাজার লিটার পানি খরচ হয়।

তৃতীয়ত, গরু পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী।
গরু সহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু ১৮ শতাংশক গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। একটি গরু বছরে ৭০ থেকে ১২০ কিলোগ্রাম মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি, খোলা বাতাসে ১০০০ লিটার পেট্রল পুড়লে যে দূষণ হয়, একটি গরু বছরে সেই পরিমাণ মিথেন উৎপন্ন করে।
গত মাসের ৮ তারিখ ফ্রান্সের ডেটা এনালাইসিস কোম্পানি স্যাটেলাইট ছবিতে বাংলাদেশের বায়ুমন্ডলে মিথেন গ্যাসের একটা অস্বাভাবিক উপস্থিতি দেখতে পায়। গ্যাসের নির্গমণ এতই শক্তিশালী যে সেটা স্যাটেলাইটে ধরা পড়ার মত যথেষ্ট, এবং মোটামুটি অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশের চাইতেও এই ক্লাস্টার অনেক বড়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, গরুর দুধ উৎপাদনে পরিবেশ ও আমাদের বড় প্রতিবন্ধক।

তাই বলে কি আমরা আদর্শ খাবার দুধ খাব না? আচ্ছা কেমন হয়, যদি গরুর দুধে ল্যাকটোস, কোলেস্টরল, ফ্যাট না থাকে! গরুর দুধ উৎপাদনে জায়গা, শ্রম, পানি না লাগে! পরিবেশ দূষণ না হয়। এমনি গরুর দুধ উৎপাদনে কোন গরুই লাগবে না!

রূপকথার মত শোনাচ্ছে, তাই না? গরু ছাড়া গরুর দুধ উৎপাদন এখন আর রূপকথা নয়। এটা কে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন Aviv Wolff এবং Ori Cohavi নামে ইজরাইলের দুই বিজ্ঞানি।

প্রথমে গরুর দুধের প্রোটিন থেকে জিন কপি করে। তারপর তা জীবাণুর (microbe) কোষে দুধের প্রোটিন সেট করে দেয়। এভাবে মাইক্রোবিয়াল ফারমেন্টেশন পক্রিয়া তৈরি হয় দুধের প্রোটিন। দুধের প্রোটিন থেকে দুধ তৈরি হয়। এভাবে একটা মাত্র গরুর দুধের প্রোটিন থেকে লক্ষ লক্ষ লিটার দুধ তৈরি হয়। কোন গরু ছাড়াই।

এ দুধ দেখতে একদম গরুর দুধের মতই, ঘ্রাণ একই, স্বাদ একই। এবং রাসায়নিক গঠন ও একই। শুধু পার্থক্য হচ্ছে অর্জিনাল গরুর দুধে ল্যাকটোস, কোলেস্টরল, ফ্যাট থাকে। ল্যাবে উৎপাদিত দুধে এসব উপাদান বাদ দেয়া হয়। দাবি করা হচ্ছে, এই দুধ বেশি টেকশই, বেশি স্বাস্থ্যকর এবং বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দুধ।

নরমাল দুধে যেমন মাখন, দধি সহ অন্যান্য ডেইরি প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়। ল্যাবে উৎপাদিত দুধ দিয়ে ও একইভাবে ডেইরি প্রোডাক্ট উৎপাদন করা যাবে। কোন পার্থক্য নাই।

সারাবিশ্বে ল্যাবে তৈরি গরুর দুধ জনপ্রিয় হলে জমি, পানি, শ্রম কম লাগবে। গরুর কারণে পরিবেশ দূষণ কমবে। এবং আমরা অধিক স্বাস্থ্যকর দুধ পাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here