যেভাবে নিজেকে আরো যোগ্য করে তুলবেন চাকরির জন্য
নিলয়ের বিবিএ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালে বয়স ২৮ বছর কিন্তু এখন অবধি সে কোন চাকরি পাচ্ছে না। ভেবেছিলো বিবিএ শেষ হলেই হাতের কাছে চাকরি এসে ধরা দিবে কিন্তু বাস্তবতা যে কত কঠিন সে এখন টের পাচ্ছে।
বর্তমান বাজারে চাকরির পাওয়া যে কত কঠিন সেটা তার থেকে ভালো কেউ জানে না। সরকারি চাকরির কথা না হয় পরে বাদ পরল সবচেয়ে কষ্টকর বিষয় সে প্রাইভেট কোন জবেও জয়েন করতে পারছে না।
প্রাথমিক পর্যায়ই তার সিভি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ভাইবার জন্যই সে ডাক পায় না। ভীষণ বিষন্নতায় তার প্রতিটি রাত কাটে। কিন্তু সে যদি বিবিএ করার সাথে সাথে তার স্কিল ডেভোলপমেন্টে মনযোগ দিত তবে আজ তাকে এই অবস্থার সম্মুখীন হত না। তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে একজন চাকরি পার্থী শুরু থেকেই নিজের স্কিল ডেভোলপমেন্ট করতে পারে।
১। মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষতা বৃদ্ধিঃ
যে কোন প্রাইভেট জবে জয়েন করার পূর্ব শর্ত হচ্ছে মাইক্রোসফট এক্সেলে নিজেকে পণ্ডিত করে তুলা। আপনার সিভিতে MS Word, MS Excel, MS Power point দেখানোর জন্য নয়। সে সব বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। যদি বিবিএ ৩য় বর্ষ থেকে কোন ছাত্র মাইক্রোসফট এক্সেলের কোর্স গুলো সম্পূর্ণ করে আর বিভিন্ন ফানশন গুলোতে পাণ্ডিত্ত রাখে তবে সে ভাইবাতে প্রেক্টিকাল ভাবে সেগুলো দেখাতে পারবে যা তার জব পেতে খুব সহজ হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এক্সেলের কোন সূত্র গুলা না জানলেই নয়।
o IF এর নির্ণয়ের সুত্র
- Average এর নির্ণয়ের সুত্র
o MIN এর নির্ণয়ের সুত্র
o Max নির্ণয়ের সূত্র
o এবং সবচেয়ে জরুরী IF এর নির্ণয়ের সুত্র
২। ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করাঃ
এই বাজারে ইংরেজিতে দক্ষ না হলে চাকরির কথা চিন্তা করাও পাপ। আপনাকে ইংরেজি অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো তে অধিকাংশ কাজ ইংরেজিতেই হয়েই থাকে। তাই যদি আপনি ইংরেজিতে দক্ষ না হোন তবে কিভাবে আপনি ভাইবা বোর্ড ফেস করবেন? ইভেন আপনার ভাইবা বোর্ডের অধিকাংশ প্রশ্নই ইংরেজিতে হবে। তাই শুরু থেকেই ইংরেজিতে ফোকাস করতে থাকুন। আর যদি IELTS এ 7 পয়েন্ট তুলতে পারেন সেটা কিন্তু আপনার সিভিকে অনেক শক্ত অবস্থানে রাখবে। তাই ইংরেজিতে অবশ্যই শুরু থেকেই দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। আপনি ইংরেজি সিনেমা, সিরিজ দেখতে পারেন। কারন এটি একটি অন্যতম সহজ উপায় ইংরেজিতে অনরগল কথা বলার।
৩। Business Analyst কোর্স করতে পারেন!
ব্যবসার নতুন সোর্স খুজে বের করা, কাস্টমারের মানষিকতা বুঝা এবং ম্যানেজমেন্টের সাথে সমন্ময় করে প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন উপার্যনের সুযোগ সৃষ্টি করাই হচ্ছে একজন Business Analyst এর কাজ। এই সাময়িক সময়ে এই কোর্সটির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি আকর্ষনীয় বেতনে Business Analyst নিয়োগ দিচ্ছে। তাই যদি গ্রাজুয়েশন করার সাথে সাথে বা গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আপনি এই কোর্সটি করে থাকেন তবে নিশ্চিত ভাবে চাকরির বাজারে আপনি এগিয়ে থাকবেন। কোর্সটি আপনি অনলাইনেও করতে পারবেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বিবিএ করা একজন ছাত্রের জন্য এই কোর্সটি তাকে অনেক এগিয়ে রাখবে চাকরির বাজারে।
৪। ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুনঃ
বর্তমান সময়ের প্রায় সকল কোম্পানি অনলাইন বেজড ভাবে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। আর এই কোর্সটি জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই অনেক কোম্পানিতে এন্ট্রি করতে পারবেন খুব সহজেই। ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই যদি এখন থেকে কোর্সটি নিয়ে কাজ শুরু করে দিন তবে ভবিষ্যতে আপনি একজন ভালো ডিজিটাল মার্কেটার হতে পারেন যা কর্মক্ষেত্রে আপনাকে খুব সহায়তা প্রদান করবে। আর একজন ডিজিটাল মার্কেটারের বেতন বেশ ভালোই হয়েই থাকে।
৫। নিজের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করুন:
সত্যি বলতে চাকরি পেতে হলে আপনি নিজের পরিধিও বৃদ্ধি করতে হবে। এখন অনেক কোম্পানি ইন্টার্নালি নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাই আপনার পরিচিত বড় ভাই, ক্যাম্পাসের সিনিয়র হয়তবা ফেসবুকের কোন বন্ধু যিনি ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদের সাথে নিজের পরিচয় এবং সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন। তাদের সবাইকে নিজের সিভি দিয়ে রাখুন। সত্যি বলছি এই বাজারে যার নেটওয়ার্ক যত ভালো তার চাকরি পাবার সম্ভবনা তত বেশি। সবার সাথে পরিচয় হলে তার ফেসবুক একাউন্টে এড হবার চেষ্টা করুন। যদি বাস্তবিক জীবনে আপনার খুব শক্ত নেটওয়ার্ক থাকে তবে নিশ্চিত রুপে এটা আপনার জব সেক্টরেও অনেক উপকারে আসবে।
৬। প্রোফেশনাল লিংকডইন আইডি তৈরি করুন:
বলতে মোটের উপর আমাদের অধিকাংশ মানুষেরই কোন লিংকডইন একাউন্ট নেই। আমরা ফেসবুকে খুব এক্টিভব, ইন্সটাগ্রামেও এক্টিভ কিন্তু একটা প্রোফেশনাল লিংকডইন একাউন্ট নেই। কিন্তু আমরা আশা করি বড় বড় জবের। এটা সত্যি যে লিংকডইনে অনেক জব অফার আসে। তাই আপনাকে জানতে হবে কিভাবে প্রোফেশনাল লিংকডইন একাউন্ট তৈরি করতে হয়। বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশ কোটির বেশি মানুষ লিংকডইন একাউন্ট ব্যবহার করে থাকে। আর বাংলাদেশেও এই সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সবার সাথে তাল মিলিয়ে রাখার জন্য নিজের লিংকডইন একাউন্টটি সুন্দর করে তৈরি করুন।
৭। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকুন:
ভাইবাতে একটা প্রশ্ন সব সময়ই থাকে। যে কেনো আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হবে? কোম্পানিকে আপনি কি প্রোভাইড করতে পারবেন? প্রতিটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ভাইবা বোর্ডেই নিয়োগকর্তারা আপনাকে এই ধরনের প্রশ্ন করবেই যে কেনো আপনাকে বেশি বেতন দিব। তাই এই প্রশ্নের উত্তর খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখুন। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকুন। নিজেকে সুন্দর ভাবে রিপ্রেজেন্ট করতে জানতে হবে বেসসরকারি চাকরির বাজারে। বিষয়টি বলতে পারেন নিজেকে বিক্রি করা জানতে হবে। যদি সুন্দর ভাবে নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারেন তবে নিঃসন্দেহে এটা একটা ভালো ফলাফল এনে দিব। আর যে নিজেকে জানে না সে কিভাবে তার কোম্পানিকে জানবে। নিজে কনফিডেন্ট হোন এবং নিজেকে সুন্দর ভাবে রিপ্রেজেন্ট করতে শিখুন।
৮। নিজের উপর আস্থা রাখুন :
হুট করেই কারো চাকরি হয়না। এই বিষয়টি আপনার মাথা রাখবেন। তাই সর্বদাই নিজের উপর আস্থা রাখুন। আর চেষ্টা করতে থাকুন। আপনার যোগ্যতা আর নিজের উপর আস্থা রাখতেই হবে। এ ছাড়া কোন উপায় নেই জব পাওয়ার। হতে পারে আপনি অনেক গুলো ভাইবা ফেস করেছেন কিন্তু কোন যায়গা থেকে কোন প্রকার কল পাননি বা সিলেক্ট হন তাই বলে হাল ছেড়ে দিবেন না। চেষ্টা করতেই থাকুন। দেখবেন হুট করে ভালো কোন যায়গায় আপনার জব হয়ে যাবে।
অবশেষে বলতে পারি চাকরির বাজারে স্কিল ডেভেলপমেন্টের বিকল্প নেই। তাই এখন থেকেই আপনাকে সচেতন হতে হবে আর অযথা সময় নষ্টনা করে নিজের স্কিলের দিকে মনযোগ দিতে হবে। তবে দেখবেন ঠিক যায়গায়ই আপনার জব হবে এবং ভবিষ্যতটাও অনেক সুন্দর হবে।
Interview Questions Bangla-ইন্টারভিউ বোর্ডের কমন প্রশ্ন – ৫০টি
ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি( Interview Tips Bangla) এবং ২৫টি কার্যকরী টিপস