প্রতিনিয়ত কল করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসহ নানা কারণে অনেকেই প্রতিদিন দীর্ঘ সময় টানা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। অভ্যাস এমনই যে, রাতেও ঘরের আলো কমিয়ে লম্বা সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন অনেকে। যার ফলে ফোনের পর্দার নীল আলো চোখের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিও করে। চলুন জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় কিছু কৌশল, যেগুলো মেনে চললে চোখ নিরাপদে রাখা যায়।
সেটিংস থেকে নীল আলোর নিঃসরণ কমানো
স্মার্টফোনের পর্দা থেকে আসা নীল আলো (ব্লু-রে) মানুষের চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি দীর্ঘমেয়াদে চোখের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্য যেকোনো ফোনের ডিসপ্লে সেটিংস থেকে ব্লু লাইট ফিল্টার চালু করে কালার অ্যান্ড ব্রাইটনেস যতটা পারা যায়, কমিয়ে রাখতে হবে। এতে স্মার্টফোনের পর্দা থেকে কম নীল আলো বের হবে, ফলে চোখের ক্ষতি হবে না।
ব্রাইটনেসে ব্যালেন্স আনা
স্মার্টফোনের বেশি উজ্জ্বল ব্রাইটনেস বাড়ানো বা একেবারেই অনুজ্জ্বল পর্দা-কোনোটাই চোখের জন্য ভালো নয়। ব্রাইটনেসের সামঞ্জস্য রাখতে হবে। স্মার্টফোনের ব্রাইটনেস লেভেল এমন রাখতে হবে, যাতে ফোনে সব সময় ভালোভাবে ছবি বা ভিডিও চোখের জন্য আরামে দেখা যায়।
২০/২০/২০ কৌশল অনুসরণ করা
স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য ২০/২০/২০ নামে একটি নিয়ম রয়েছে। এটি অনুযায়ী ব্যবহারকারী প্রতি ২০ মিনিট পরপর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য অন্তত ২০ ফুট দূরের কিছু দেখতে হবে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া থেকে নিষ্কৃতি মিলবে।
ফোনের নাইট মোড চালু রাখা
ফোনের নাইট মোডে স্মার্টফোনের পর্দা কালো রঙের হয়; এতে লেখাগুলো সাদা দেখায়। আর এই নাইট মোড চালু রাখলে অন্ধকারে অতিরিক্ত আলো ছাড়াই লেখা বা ছবি ভালোভাবে দেখা যায়। ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ে না। প্রায় প্রতিটি ফোনেই সাধারণত নাইট মোড থাকে।
কিছুক্ষণ পরপর চোখের পলক ফেলা
নিয়মিত পলক ফেলার ফলে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে। চোখের ওপর চাপ কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় প্রতি আধা ঘণ্টায় অন্তত ১০ থেকে ২০ বার এক সেকেন্ড সময় ধরে চোখের পলক ফেলতে হবে।
ফাঁকে-ফাঁকে বিরতি নেওয়া
একটানা স্মার্টফোন ব্যবহারে চোখের ওপর চাপ তৈরি হয়। এজন্য সময় বা স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দরকার ছাড়া স্মার্টফোন যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো