আজ আমি আমার গল্প বলব, আমার গল্পটি একটু বড় হতে পারে আশা করি সবাই ধৈর্য সহকারে পড়বেন।
আমি মাস্টার্স পড়া শেষ করেছি তাও অনেক বছর আগে। পড়ালেখা শেষ করার সাথে সাথে বিয়ে করে ফেলি আর বছর যেতে না যেতেই আমার কোল জুড়ে আমার প্রথম কন্যা সন্তানের আগমন। তাই চাকরি-বাকরি করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।
লেখাপড়ায় খুব একটা খারাপ ছিলাম না, আমার হাসবেন্ড আমাকে প্রথম প্রথম বলতো আমি তার থেকে বেশি যোগ্য কেননা আমার রেজাল্ট তার থেকে বরাবরই ভালো।
কিন্তু আমি হয়ে রইলাম গৃহিণী আর আমার উনি ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকলো।
ফলে আমার চারপাশের মানুষেরা ভুলেই গেল যোগ্যতা আমার বেশি। দিনশেষে আমি একজন গৃহিণী, এটাই আমার পরিচয়।আমার চারপাশে ভালোবাসার কমতি ছিল না কিন্তু দিনে দিনে মনে হচ্ছিল সম্মানটা যেন হারিয়ে ফেলছি।
কিছু করার ইচ্ছা যখন প্রচন্ড আকারে চেপে বসল তখনই আমার জীবনে এক শুভাকাঙ্ক্ষী আসে আমার অনেক কাছের এক বান্ধবী। যে কিনা আমাকে বুদ্ধি দেয় আমি যেন আমার রান্না জ্ঞানটাকে কাজে লাগাই। আমার পেজটার নাম তাঁরই দেওয়া। #মাম্মিস কিচেন”
আমি আমার মেয়ের জন্য যা রান্না করতাম চেষ্টা করতাম অল্প পরিমাণ খাবারের মধ্যে কিভাবে ষোলআনা পুষ্টি দেয়া যায়।পুষ্টিকর খাবার রান্নার জ্ঞান দিয়ে শুরু করলাম আমার যাত্রা। তখন না ছিলো আমার কোন সাহায্যকারী,না ছিল কোন ডেলিভারি ম্যান।
আমি আমার পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে একাই বাজার করতাম যেহেতু বেশিরভাগ কাজই ছিল আমার শিশুদের খাবার নিয়ে তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ষোলআনা রাখার জন্য কাটা, বাছা, ধোয়া সব কাজ আমি একাই করতাম।
এমনকি সব তৈরি করে ডেলিভারি টাও আমি দিয়ে আসতাম।
কি ভাবছেন ?ভুল পড়ছেন? জিনা ঠিকই পড়েছেন আমি নিজে গিয়ে খাবারগুলো ডেলিভারি দিয়ে আসতাম সাথে থাকতো আমার ৫ বছরের মেয়ে কিন্তু আমি কোন পিছুটান নিয়ে নিজেকে দাবিয়ে রাখিনি.যখন ডেলিভারি দিতে যেতাম এক হাতে মেয়েকে শক্ত করে ধরে রাখতাম আরেক হাতে খাবারগুলো ধরে রাখতাম (আর চোখে অনেক রঙিন স্বপ্ন দেখতাম)।
আল্লাহর অশেষ রহমতে খুব অল্প সময় স্বপ্ন পূরণ হতে থাকলো।খুবই অল্প সময় আমার কিছু রেগুলার কাস্টমার হয়ে গেল আর আমার সফলতা দেখে, কাজের প্রতি আগ্রহ দেখে সেই সময় আমার হাজব্যান্ড পাশে এসে দাঁড়াল, তার অফিসের ১ ছেলেকে দিয়ে ডেলিভারির কাজটা করা তো।
আর আমার উনি ব্রেডক্রাম বানাতে বিভিন্ন ধরনের খাবারের উপর ব্রেড ক্রাম মাখাতে আমাকে সাহায্য করত(অফিস থেকে ফিরে এসে) ।আমি পেয়ে গেলাম আমার সেই প্রাপ্য সম্মান আমার জীবনে ভালোবাসার কমতি ছিল না যে সম্মান টা চেয়েছি তা যেন তখন আমার হাতের মুঠোয়।
আমার গল্পটি আমি কেন বললাম জানেন আপনারা যারা এখনো ভাবছেন কিভাবে কি শুরু করবো? একা একা এত কাজ কিভাবে করব? কেউ কি আমার থেকে কিনবে? এত বাঁধার কথা চিন্তা না করে কাজ শুরু করে দেন. কাজে শুদ্ধতা থাকলে ইনশাল্লাহ সফল হবেন।
বেশিদিন আমি কাজ করতে পারিনি কেননা আমার কোল জুড়ে আবার একটি সন্তান আসে। তাই কিছুদিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখি। কিন্তু খুব দ্রুতই আমি আবার আমার কাজ শুরু করব ইনশাআল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন।
আমি মুসলিমা ইসলাম রিয়া।